বেঙ্গল নেক্সট:
ভালোবেসে বিয়ে করেও প্রতারণা শিকার! ফের হিন্দু ধর্মে প্রত্যাবর্তন করলেন পুষ্পা।
ভালোবেসে বিয়ে, তারপর ধর্ম পরিবর্তন। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে ছন্দপতন। অভিযোগ, স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অভাব-অনটনের সংসারে একাই লড়াই করে দিন কাটছিল তাঁর। সেই পরিস্থিতিতে ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন দুর্গাপুরের পুষ্পা বাউরী। কিন্তু আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে দাঁড়াল হিন্দু সুরক্ষা সমিতি।
মহালয়ার সন্ধিক্ষণে দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস এলাকায় শ্রীরামচন্দ্রের সামনে যজ্ঞের আয়োজন করে পুষ্পাকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার এমএএমসি অঞ্চলের বাসিন্দা পুষ্পা বাউরী। ভালোবেসে বিয়ে করার পর তিনি আনসারী পদবি গ্রহণ করেন। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের পর একসময় স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকেই সংসার চালানোর লড়াই শুরু হয় পুষ্পার। অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে ছেলে ও বৌমাকে নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে। জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ফের নিজের পুরনো ধর্মে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পরিস্থিতির চাপে সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হচ্ছিল না।পুষ্পার এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়ান হিন্দু সুরক্ষা সমিতির সদস্য পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু ধর্মে ফিরে আসার উদ্যোগ নয়, পুষ্পার পরিবারের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন তিনি। এরপর মহালয়ার সন্ধিক্ষণে দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস এলাকায় শ্রীরামচন্দ্রের সামনে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। সেখানেই ধর্মে প্রত্যাবর্তনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় আইনসম্মত পদ্ধতিও অনুসরণ করা হয়েছে।ধর্মে ফিরে আসার পর পুষ্পা বাউরী বলেন, “ভালোবেসে বিয়ে করার পরেও আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাই ছেলে ও বৌমাকে নিয়ে কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছিলাম। এখন হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।”
হিন্দু সুরক্ষা সমিতির সদস্য পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “স্বামী তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে পুষ্পা জানিয়েছেন। সেই কারণেই তিনি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে চেয়েছেন। আমরা পুষ্পা ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। আগামী দিনেও তাঁদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। পরিবারের সদস্যরা যাতে কোনওভাবে আঘাত না পান, সে দিকেও আমাদের নজর থাকবে।”







